ভুঞাপুর বার্তা: পাবনায় হিন্দুদের ওপর হামলা জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ হাইকোর্টের

Sunday, November 3, 2013

পাবনায় হিন্দুদের ওপর হামলা জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ হাইকোর্টের

ডেস্ক রিপোর্ট: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার সাথে জড়িতদের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
সেই সঙ্গে বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যে বিষয়ে প্রতিবেদন দিতেও পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে

রবিবার বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এটিএম আলতাফ হোসেনের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। আদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজি, পাবনার এসপি, ডিসির প্রতি এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া হিন্দু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে

এক কিশোরের ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তির গুজব ছড়িয়ে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় গতকাল শনিবার বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ২০-২৫টি বাড়ি এবং দুটি মন্দিরে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করা হয়

হামলার পরদিন এলাকায় ্যাব-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আক্রান্ত পরিবারগুলোর মধ্যে এখনও বিরাজ করছে আতঙ্ক। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরা তাদেরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে

তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। কারও বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি। যদিও পাবনার পুলিশ সুপার দায়ীদের গ্রেপ্তারে আশ্বাস দিয়েছেন

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বনগ্রাম বাজারে সকাল ১০টায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবলু সাহার ছেলে রাজিব সাহা (১৫) ফেসবুকে মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করেছে। পরে ফেসবুকের একটি পাতার ফটোকপি বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়

কিন্তু এই কিশোরের আদৌ কোনো ফেসবুক পেজ আছে কি না, তার সহপাঠীরা জানে না তা। পুলিশ বলছে, গোটা ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে মনে করছে তারা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর মামলার শুনানির শেষ পর্যায়ে তার এলাকায় সাম্প্রদায়িক সংঘাত ছড়াতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ

এর আগে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে একই ধরনের গুজব ছড়িয়ে বৌদ্ধপল্লিতে হামলা করা হয়। এতে ১২টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৪টি বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন পাশের উখিয়া টেকনাফেও সাতটি বৌদ্ধবিহার ১১টি বসতিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। উত্তম বড়ুয়া নামের এক যুবকের ফেসবুকে পবিত্র কোরআন শরিফের অবমাননার ছবি পাওয়া গেছেএমন অভিযোগ তুলে হামলা চালানো হলেও তদন্তে তা প্রমাণিত হয়নি


No comments:

Post a Comment