ভুঞাপুর বার্তা: সাঁথিয়ায় হিন্দুপাড়ায় আতংক, গ্রেফতার ১ বিএনপি জামায়াতের ২০ নেতাকর্মীসহ আসামি তিনশ'

Sunday, November 3, 2013

সাঁথিয়ায় হিন্দুপাড়ায় আতংক, গ্রেফতার ১ বিএনপি জামায়াতের ২০ নেতাকর্মীসহ আসামি তিনশ'

২৫ বাড়ি মন্দির ভাংচুর, আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট: জেলার সাঁথিয়ায় হিন্দু পাড়ায় বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের পর এলাকার তিনশ'র বেশি হিন্দু পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।সুত্র ইত্তেফাক


এদিকে এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের ২০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে গতকাল তিনশ' লোককে আসামি করে পুলিশ মামলা করেছে। এ ঘটনায় রেজাউল করিম নামে বিএনপির এক সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য গতকাল প্রশাসনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা করা হয়। এছাড়া ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বনগ্রামের বাবুল সাহার ছেলের ফেসবুক একাউন্ট থেকে হযরত মুহাম্মদ (স.) কে কটূক্তি ও তার ব্যঙ্গ চিত্র প্রকাশ করার অভিযোগে শনিবার দুপুরে উত্তেজিত জনতা বাবুল সাহাসহ ২৫টি হিন্দু বাড়িতে হামলা চালায় ও আগুন লাগায়। শত শত উচ্ছৃঙ্খল যুবক বাবুল সাহার বাড়িতে ঢুকে ভাংচুরসহ অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়াও তারা রাজকুমার, নবশিল, কালা মাস্টার, সুধীর সাহা, অনিল মাস্টার, সুবাস সাহা, নিতাই ঘোষ, সুকুমার রায়, ডা. উত্তম, বিষ্ণু সাহা, চিত্র কর্মকারসহ ২৫টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘর ও ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুট করে। ভাংচুর চালানো হয় পারিবারিক পাঁচটি মন্দিরে। ঐ দিনের তাণ্ডবের কারণে হিন্দু সমপ্রদায় কালী পূজা উদযাপন করতে পারেনি।

পরে পুলিশ প্রশাসন ও র্যাব সদস্যরা এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ধ্বংসলীলার পর এলাকার তিন শতাধিক হিন্দু পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অনেকে ভয়ে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

বনগ্রাম হিন্দু পাড়ায় গেলে দেখা যায় দিনের তাণ্ডবের দৃশ্য। সাংবাদিকদের দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাজ কুমারের স্ত্রী চায়না সাহা বলেন, 'আমার বাড়ি ভাংচুরের সময় যুবকরা কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিঁড়ে নিয়ে গেছে।' কালা মাস্টারের বৃদ্ধ মা বিষ্ণু সাহা বলেন, 'আমার কিছু নাইরে বাবা। ওরা সব কিছু নিয়ে গেছে।' অনিল সাহার মা হেনা সাহা জানান, 'রাতে ঘুম হয় নাই। কখন যেন বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়, এই ভয়ে সারারাত ঘুমাইনি।'

ওই দিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু। তিনি বলেন বনগ্রামের ঘটনা কক্সবাজারের রামুর মতো পরিকল্পিত। এলাকায় আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে এ জন্য পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ।

হিন্দু সমপ্রদায়ের বাড়িতে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় গতকাল রবিবার দুপুরে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী এডিশনাল ডিআইজি খোরশেদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন পাবনা জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, পাবনা র্যাব-১২ কমান্ডার মেজর মঈন উদ্দিন, বিশিষ্ট কলামিষ্ট রণেশ মৈত্র, পাবনা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গণেশ সাহা ও সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন। এ ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

গতকাল সকালে পাবনা জেলা প্রশাসন ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার উদ্যোগে সন্ধ্যার আগে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি গণেশ ঘোষ, পাবনা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা রণেশ মৈত্র, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি চন্দন ঠাকুর, সাধারণ সম্পাদক বিনয় জ্যোতি কুন্ডু প্রমুখ। তারা অবিলম্বে হিন্দু পরিবারের উপর হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানান।

তদন্ত কমিটি :পাবনার এডিএম মনিরুজ্জামানকে আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম মোস্তাইমুন সায়েম ও আইটি বিশেষজ্ঞ মাহফুজুল আলমকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে পৌর মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রাংকে আহ্বায়ক ও আতাইকুলা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কোরবান আলী, ক্ষেতুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম কাশু, গৌরিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম ও ভুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আ. আজিজকে সদস্য করে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা হেনা সাহা বলেন, 'রাতে ঘুম হয় নাই। কখন যেন বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়- এই ভয়ে সারা রাত ঘুমাইনি'।


No comments:

Post a Comment