গ্রাম্য সালিশে বিচারের জের
স্টাফ রিপোর্টার: গ্রাম্য সালিশে মাতব্বরদের দেয়া
লাঞ্চনা, স্বামী
সোহেল রানাকে
নির্যাতন ও
পরিবারের লোকজন
বিয়ে মেনে
না নেয়ায়
ক্ষোভ আর
অভিমানে গায়ে
কেরোসিন ঢেলে
আত্মহত্যা করেছে মুনমুন নামের ৯ম
শ্রেণীর এক
ছাত্রী। ঘটনাটি
ঘটেছে শনিবার
ভূঞাপুর উপজেলার
অজূর্না ইউনিয়নের
তারাই গ্রামে।
সে সৌদি
প্রবাসী মমিন
মিয়ার কন্যা
ও স্থানীয়
বলরামপুর উচ্চ
বিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্রী।
এদিকে মুনমুনের আত্মহত্যার
খবর শুনে
মনের মধ্যে
ভালবাসা জমিয়ে
রাখা আরেক
প্রেমিক লিটন
(২০) শনিবার
রাতে গলায়
ফাঁস দিয়ে
আত্মহত্যা করেছে।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার অজূর্না ইউনিয়নের
তারাই গ্রামের
আব্দুল বাছেদের
পুত্র সোহেল
রানা ও
একই গ্রামের
সৌদি প্রবাসী
মমিন মিয়ার
মেয়ে মুনমুন
আক্তার স্থানীয়
বলরামপুর উচ্চ
বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেনীতে পড়াশুনা করতো।
একই শ্রেনীতে
পড়াশুনার সুবাধে
বছর খানেক
আগে তাদের
মধ্যে গভীর
বন্ধুত্ব সম্পর্ক
গড়ে উঠে।
এক পর্যায়ে
তা প্রেমের
সম্পর্কে রুপ
নেয়। মাস
তিনেক আগে
সহপাঠী রাব্বি
ও দোলনার
সহযোগিতায় তারা গোপনে বিয়ে করে।
বিয়ের বয়স
না হওয়ায়
কাজী তাদের
বিয়ে রেজিস্ট্রি
করা থেকে
বিরত থাকে।
কয়েকদিন আগে
বিয়ের বিষয়টি
প্রকাশ পেয়ে
যায়।
এনিয়ে বৃহস্পতিবার
রাতে গ্রাম্য
মাতব্বর ইউপি
সদস্য মিনহাজ
উদ্দিন, সাবেক
ইউপি সদস্য
জয়নাল আবেদীন,
আজিজুল হক,
আনু মাতব্বর,
মধু মিয়া,
রশিদ মিয়া,
বাদশা মিয়া
ও জাহেদুল
ইসলাম উভয়
পরিবারের লোকজন
নিয়ে সালিশে
বসেন। ওই
সালিশে বিয়ের
বিষয় ধামাচাপা
দিয়ে এক
তরফাভাবে সোহেল
রানাকে দোররা
মারার সিদ্ধান্ত
নেয় এবং
মুনমুনকে বিভিন্ন
ধরনের কটুক্তি
করে। সালিশে
গ্রাম্য মাতব্বরদের
সিদ্ধান্তের বিষয়টি ভালভাবে মেনে নিতে
পারেনি মুনমুন।
শনিবার সকাল
সাড়ে ৯টার
দিকে নিজ
শয়নকক্ষে গায়ে
কেরোসিন ঢেলে
আগুন ধরিয়ে
দেয় মুনমুন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা
যায়। ওইদিন
থানা পুলিশের
ঝামেলা এড়াতে
তাড়াহুড়া করে
তারাই কবরস্থানে
মুনমুনের লাশ
দাফন করা
হয়।
এরআগে তার
ব্যবহৃত একটি
ডায়েরীতে মুনমুন
লিখে যায়
মৃত্যুর জন্য
তার মা
হেলেনা বেগম
ও চাচাতো
বোন জামাই
স্থানীয় মুক্তি
ক্লিনিকের দন্ত চিকিৎসক সোহেল
দায়ী। সে
আরো লেখে
এরা দুইজনই
আমার বিয়ে
মেনে না
নেয়ার জন্য
দায়ী। ওরা
আমার সংসার
করতে দিল
না। তাই
আমি মৃত্যুর
পথ বেছে
নিলাম।
এদিকে মুনমুনকে
ভালবাসতো একই
গ্রামের তোফাজ্জল
হোসেনের পুত্র
লিটন। সে
ময়মনসিংহ জেলার
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় কনস্ট্রাকশনের কাজ করতো।
ভালবাসার বিষয়টি
কতিপয় বন্ধুদের
অবহিত করলেও
জানতো না
মুনমুন। শনিবার
মুনমুনের আত্মহত্যার
বিষয়টি শুনে
লিটন ওই
এলাকাতেই গলায়
ফাঁস দিয়ে
আত্মহত্যা করেছে। এনিয়ে এলাকার সর্বত্রই
চলছে আলোচনার
ঝড়। এলাকাবাসীর
অভিযোগ গ্রাম্য
মাতব্বর ও
বোন জামাই
সোহেলের একতরফা
সিদ্ধান্তের কারনেই দুই দু’টি
প্রাণ অকালে
ঝড়ে গেল।
এর পিছনে
দায়ী যারা
তাদের বিচারও
দাবী করেন
তারা।
এবিষয়ে মুনমুনের
মা হেলেনার
বেগমের সাথে
যোগাযোগ করা
হলে তিনি
কোন কথা
বলতে রাজি
হননি। এছাড়াও
বোন জামাই
সোহেলের সাথে
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে
পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় স্থানীয়
ইউপি সদস্য
জয়নাল আবেদীন
বলেন, এলাকার
লোকজনের সাথে
কথা বলেন।
এবিষয়ে আমি
আপনার সাথে
পরে যোগাযোগ
করবো।
এব্যাপারে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
মো. হারেচ
আলী মিয়া
জানান, বিষয়টি
আমি শুনেছি।
তবে এব্যাপারে
এখন পর্যন্ত
কেউ অভিযোগ
দায়ের করেনি।
No comments:
Post a Comment