টাঙ্
টাঙ্
টাঙ্
টাঙ্গাইলের গোপালপুর রণক্ষেত্র
আব্দুর রাজ্জাক, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) থেকে ফিরে: টাঙ্গাইলের
গোপালপুর উপজেলা। ১৯৯১ সালে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত
হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী, ২০০১-এ আবার বিএনপি, ২০০৮ সালে ফের
আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের
পাল্টাপাল্টি সংসদ সদস্য নির্বাচনের ঐতিহ্যের সঙ্গে আরেকটি নেতিবাচক
ঐতিহ্যের ধারক ওই উপজেলা। যে দলের সংসদ সদস্য তাঁর পক্ষের লোকজনের তাণ্ডবে
বিরোধীরা এলাকাছাড়া হয়। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে পুরনো প্রার্থী ফের
নির্বাচিত হলেও নেতিবাচক ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত আছে। ভোটের দিন থেকে শুরু
হওয়া সহিংসতা গতকাল সোমবারও অব্যাহত ছিল। নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে ১৮ দলীয়
জোটের নেতা-কর্মীদের অবিরাম সংঘর্ষে গোপালপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। চরম
আতঙ্কে ভুগছে এলাকাবাসী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যে সাংবাদিকরাও পেশাগত
দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
গতকাল সকালে সংবাদ সংগ্রহের জন্য এ প্রতিবেদক গোপালপুর রওনা হন।
মোটরসাইকেলযোগে সোমবার সকাল ১১টায় গোপালপুরের হেমনগর এলাকায় পৌঁছার পর জানা গেল, সামনে সংঘর্ষ চলছে। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর স্থানীয় আখতার হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে যেতে বারণ করেন। তাঁর কথা উপেক্ষা করে কিছুদূর এগোতেই দেখা হয় আরো কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের কাছে নির্বাচন-পরবর্তী গোপালপুরের অবস্থা জানতে চাইলে তারা চার-পাঁচটি স্থানে সহিংসতা হচ্ছে বলে জানায়। আর সংবাদ সংগ্রহ করতে ওই এলাকায় যাওয়ার কথা শুনে আল মামুন নামের একজন মন্তব্য করেন, 'জীবনের মায়া থাকলে বাড়ি ফিরে যান।' এ সময় গোপালপুর থানার ওসি মাহবুবুল হকের কাছে গোপালপুরের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছে বলে জানান। তিনি এও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। এ সময় গোপালপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. হারুন-অর-রশীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনিও বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ চলছে বলে জানান। তিনি আরো জানান, ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচনী সহিংসতার বলি হয়েছে। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও অন্যান্য মাধ্যমে কথা বললে তাঁরা এই ভয়াবহ অবস্থার ভেতর গোপালপুর না যেতে পরামর্শ দেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও মোবাইল ফোনে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, উপজেলার সূতী নয়াপাড়া লাঙ্গলজোড়া, মির্জাপুর উত্তর পাড়া, ভূটিয়া, সাজনপুর ও বাজার এলাকায় রবিবার রাতের পর ফের সোমবার সকাল থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছে। ভূটিয়া ও সাজনপুর এলাকায় সংঘর্ষে ধোপাকান্দী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবর রহমান ও ছাত্রলীগ নেতা রিপনসহ সাতজন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত মজিবর ও রিপনকে পুলিশ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এদিকে মির্জাপুর উত্তর পাড়ায় সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছে। তবে তাদের নাম জানা সম্ভব হয়নি। এ সময় আওয়ামী লীগকর্মীরা মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ছাড়া সূতী নয়াপাড়া লাঙ্গলজোড়া ও বাজার এলাকায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ছাত্রদলের সানোয়ার, মন্টু, সুমনসহ উভয় দলের ৯ জন আহত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, উপজেলা সদরের কয়েকটি সড়ক ও মোড় দখলে রেখেছে উভয় পক্ষ। এক পক্ষকে পেলেই আরেক পক্ষের লোকজন চড়াও হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
No comments:
Post a Comment